বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পুনর্মঞ্চায়ন: দক্ষিণ আফ্রিকায় মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া
এই পাতায়
মূল বিষয়গুলো
- ›লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের ১৭ মাস পর আবার টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
- ›আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া দল।
- ›কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডির অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কো ইয়ানসেন।
- ›ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে বিদেশের মাটিতে জয়ের ধারায় ফিরতে চায় কামিন্সের দল।
গত বছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) জমজমাট ফাইনালের ১৭ মাস পর আবারও টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে অজিরা। লর্ডসের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর প্রোটিয়ারা খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি। ঘরের মাঠেও দীর্ঘদিন পর নামছে টেম্বা বাভুমার দল। এবার নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লিউটিসি ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সাম্প্রতিক হোঁচট
অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্যটি আরও দীর্ঘমেয়াদি। দলের অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্কের ভাষায়, তারা ক্রিকেটের এক ধরনের ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ জয়ের মিশনে রয়েছেন। আগামী ১২ মাসের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয় করার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লিউটিসি ট্রফি ঘরে তোলার সুযোগ রয়েছে তাদের। তবে এই দীর্ঘ অভিযানের শুরুটা ভালো হয়নি প্যাট কামিন্সের দলের। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্টেই হার দেখতে হয়েছে তাদের। ওই ম্যাচে দলের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা এবং পেস আক্রমণের বাড়তি বয়স নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
চোট সমস্যা ও প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণ
দক্ষিণ আফ্রিকা দলকেও একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরের পর তারা কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি, আর ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। মাঠের দীর্ঘ বিরতির পাশাপাশি চোট সমস্যাও ভোগাচ্ছে স্বাগতিকদের। চোটের কারণে দলে নেই টনি ডি জর্জি। প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না দলের মূল পেসার কাগিসো রাবাদা এবং পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন লুঙ্গি এনগিডি। এই অবস্থায় নতুন বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন মার্কো ইয়ানসেন। নিজের সর্বশেষ টেস্টে ছয় উইকেটের পাশাপাশি ৯৩ রান করে ম্যাচসেরা হওয়া ইয়ানসেনের ওপর দল অনেকটাই নির্ভরশীল।
| বিষয় | দক্ষিণ আফ্রিকা | অস্ট্রেলিয়া |
|---|---|---|
| মূল লক্ষ্য | ঘরের মাঠে অজিদের হারিয়ে ডব্লিউটিসি ফাইনালে পা রাখা | বিদেশের মাটিতে টানা সিরিজ জিতে গ্র্যান্ড স্ল্যামের পথে এগোনো |
| বোলিংয়ের মূল চ্যালেঞ্জ | রাবাদা ও এনগিডিকে ছাড়া অনভিজ্ঞ পেস লাইনআপ সামলানো | বয়সী পেস আক্রমণের ধকল ও কার্যকারিতা ধরে রাখা |
| ব্যাটিংয়ের ফোকাস | দীর্ঘদিন টেস্ট না খেলার জড়তা কাটিয়ে ছন্দ পাওয়া | টপ অর্ডারের ধারাবাহিকতা ও লাবুশেনের বড় রানের ফেরা |
লাবুশেনের ফর্ম ও সম্ভাব্য একাদশ
অস্ট্রেলিয়া শিবিরের অন্যতম বড় আলোচনার নাম মর্নাস লাবুশেন। টেস্টে তিন বছর ধরে কোনো শতক নেই এই ব্যাটারের। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নিজের ফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিনের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে একাদশে তার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়েছে। দলের টপ অর্ডারের অনিশ্চয়তা কাটাতে তার ব্যাটে বড় স্কোরের অপেক্ষায় অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা সম্ভাব্য একাদশ: এইডেন মার্করাম, রায়ান রিকেলটন, ডেভিড বেডিংহাম, টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), ট্রিস্টান স্টাবস, উইয়ান মুল্ডার, কাইল ভেরেইন (উইকেটকিপার), মার্কো ইয়ানসেন, সিমন হারমার, কেশভ মহারাজ, এনরিখ নরকিয়া।
অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য একাদশ: ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মর্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, বিউ ওয়েবস্টার, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড।
সূত্রdhakapost.com
সাধারণ প্রশ্ন
অস্ট্রেলিয়া কত বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে এলো?
অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘ আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে কারা অনুপস্থিত?
প্রথম টেস্টে কাগিসো রাবাদা খেলছেন না এবং চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন লুঙ্গি এনগিডি।
মর্নাস লাবুশেনের বর্তমান ফর্ম কেমন?
টেস্টে তিন বছর ধরে সেঞ্চুরি না থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে শতক হাঁকিয়েছেন মর্নাস লাবুশেন।
