খেলার মাধ্যমে সমাজ বদল: কলসিন্দুরের কিশোরীদের ফুটবলের বিপ্লব
← তালিকায় ফিরুন
হালনাগাদ

খেলার মাধ্যমে সমাজ বদল: কলসিন্দুরের কিশোরীদের ফুটবলের বিপ্লব

খেলাধুলার মাধ্যমে কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরা একটি পুরো সমাজের অবকাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের নারী ফুটবলাররা। সানজিদা-মারিয়াদের ফুটবল অর্জনের পর গ্রামে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ, পাঠ্যবইয়েও স্থান পেয়েছে তাদের অনুপ্রেরণাদায়ী লড়াই।
এই পাতায়

মূল বিষয়গুলো

  • ›২০১৬ সালে এএফসি অ-১৬ বাছাই পর্বে সানজিদাদের সাফল্যের পর বিদ্যুৎহীন কলসিন্দুরের প্রায় ৫০০ পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায়।
  • ›চাকমা, মারমা, সাঁওতাল ও বাঙালিসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কিশোরীদের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে একতাবদ্ধ জাতীয় দল।
  • ›২০১১ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টুর্নামেন্ট ও শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের হাত ধরে শুরু হয়ে এই দল জাতীয় নারী ফুটবলের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।
  • ›দারিদ্র্য জয় করে অর্জিত এই সাফল্যের গল্প উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একজন অ্যাথলেট কেবল মাঠেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন না, ক্ষেত্রবিশেষে তিনি হয়ে ওঠেন সমাজ সংস্কারের অগ্রদূত। শৈশবের খেলাধুলাকে পুঁজি করে একদল কিশোরী কীভাবে পরিবার, সমাজ এবং একটি গোটা অঞ্চলের সার্বিক চিত্র বদলে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের নারী ফুটবলাররা। ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে খেলাধুলার শক্তিতে প্রান্তিক শিশুদের সামাজিক পরিবর্তনের এই অসাধারণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অন্ধকার গ্রাম থেকে আলোর দিশারী

২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দলের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন সানজিদা আক্তার ও মারিয়া মান্দারা। ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষা সীমান্তবর্তী কলসিন্দুর গ্রামে তখন ছিল না কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ; ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট আর দারিদ্র্যের মধ্যেই কাটত দিন। তবে মাঠের সাফল্য তাদের জীবনের পাশাপাশি বদলে দেয় পুরো গ্রামের বাস্তবতা। কিশোরীদের আন্তর্জাতিক অর্জনের সুবাদে কলসিন্দুরের প্রায় পাঁচশত পরিবারে পৌঁছে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ।

বৈচিত্র্য আর ঐক্যের মেলবন্ধন

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এই নারী ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছে দারুণ সামাজিক সম্প্রীতি। বাঙালি, চাকমা, মারমা কিংবা সাঁওতাল—বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী এবং মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের মেয়েরা একই ছাদের নিচে অনুশীলন করে তৈরি করেছেন ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। ভাষার ভিন্নতা কিংবা সামাজিক রক্ষণশীলতা কোনো কিছুই তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, যা যেকোনো বহুত্ববাদী সমাজের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা বহন করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয় পাঠ্যবই

এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের হাত ধরে। কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় প্রথম আসরে রানার্সআপ এবং পরের বছরই চ্যাম্পিয়ন হয় সানজিদাদের দল। পরবর্তীতে বাফুফে তাদের নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দল গঠন করে এবং আঞ্চলিক শিরোপাও জেতে।

এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করে। শুধু তা-ই নয়, দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা জয় করে সমাজ পরিবর্তনের এই অনুপ্রেরণামূলক উপাখ্যান স্থান পেয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রমেও। উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘দ্য আনবিটেন গার্লস’ (অপরাজিত মেয়েরা) শিরোনামে তাদের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পড়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সূত্রdhakapost.com

সাধারণ প্রশ্ন

ফুটবলের সাফল্যে কলসিন্দুর গ্রামে কী ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে?

২০১৬ সালে নারী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অর্জনের পর বিদ্যুৎহীন কলসিন্দুর গ্রামের প্রায় পাঁচ শত পরিবারে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

কলসিন্দুরের নারী ফুটবল দলের মূল ভিত্তি কীভাবে তৈরি হয়েছিল?

২০১১ সালে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের প্রশিক্ষণে কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয় দল রানার্সআপ ও পরের বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রার শুরু হয়।

পাঠ্যবইয়ে কলসিন্দুরের ফুটবলারদের গল্প কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে?

উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে 'দ্য আনবিটেন গার্লস' শিরোনামে একটি পাঠ যুক্ত করে তাদের দারিদ্র্য ও সামাজিক বাধা জয়ের গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিবন্ধ