ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চালুর প্রস্তাব কেন দিলেন গাভাস্কার
এই পাতায়
মূল বিষয়গুলো
- ›সহযোগী ও টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান এক পাল্লায় না মাপার আহ্বান সুনীল গাভাস্কারের।
- ›ফুটবলের আদলে বিভিন্ন স্তরভিত্তিক 'ডিভিশন' ও প্রমোশন-রেলিগেশন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- ›আইভরিকোস্ট ও মঙ্গোলিয়ার মতো দলগুলোর অতি স্বল্প রানে অলআউট হওয়ার উদাহরণ টেনে রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
- ›তবে স্তরভেদ তৈরি করলে উঠতি দলগুলোর বড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার সুযোগ সীমিত হওয়ার শঙ্কাও থেকে যায়।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান এক পাল্লায় মাপা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’-তে প্রকাশিত এক কলামে তিনি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটীয় মান এবং বড় দলগুলোর রেকর্ডের ভারসাম্য রক্ষায় ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ বা স্তরভিত্তিক কাঠামো চালুর প্রস্তাব করেছেন।
রেকর্ডের সমতা নিয়ে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে ফিফটির রেকর্ড ভেঙে নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরির ৯ বলে করা অর্ধশতক কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে আইভরিকোস্টের মাত্র ৭ রানে অলআউট হওয়া—এমন পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা তুলেছেন গাভাস্কার। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে হওয়া এসব অস্বাভাবিক স্কোরলাইনকে টেস্ট খেলুড়ে পূর্ণ শক্তির দলগুলোর অর্জনের সঙ্গে একই তালিকায় রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এশিয়া সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ারে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গোলিয়ার মাত্র ১৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন গাভাস্কার। ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও মঙ্গোলিয়া মাত্র ১০ রানে অলআউট হয়েছিল। এমন একপেশে ম্যাচে ৪ ওভারে ৭ বা ৮ উইকেট নেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য বোলিং পরিসংখ্যান নিয়মিত দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রেকর্ডের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে তাঁর মত।
ফুটবল মডেল এবং প্রমোশন-রেলিগেশন পদ্ধতি
ফুটবল লিগগুলোর কাঠামোর উদাহরণ টেনে গাভাস্কার ব্যাখ্যা করেন, সেখানে দলগুলো বিভিন্ন স্তরে বা ডিভিশনে বিভক্ত থাকে। মৌসুম শেষে প্রমোশন এবং রেলিগেশনের স্পষ্ট নিয়মের কারণে যেকোনো রেকর্ড কোন স্তরে অর্জিত হয়েছে, তা চিহ্নিত করা সহজ হয়। ক্রিকেটেও একই ধরনের পদ্ধতি থাকলে পূর্ণ সদস্য বনাম সহযোগী দেশগুলোর পরিসংখ্যানের বিভ্রান্তি কাটবে। ভারতের ঘরোয়া রঞ্জি ট্রফিতেও এমন পদ্ধতি ভাবা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিসংখ্যান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রক্ষার স্বার্থে এমন স্তরভিত্তিক কাঠামো বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে:
- র্যাঙ্কিং ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সহযোগী ও শীর্ষ দেশগুলোকে আলাদা ডিভিশনে বিন্যস্ত করা।
- প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা অফিশিয়াল রেকর্ড বুক ও পরিসংখ্যান তালিকা সংরক্ষণ করা।
- নির্দিষ্ট সময়ের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শীর্ষ ও তলানির দলগুলোর জন্য প্রমোশন-রেলিগেশন চালু করা।
- বিশ্বকাপ বা বৈশ্বিক আসরের বাছাইপর্বে আন্তঃডিভিশন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ খোলা রাখা।
- সহযোগী দলগুলোকে নিয়মিত নিজেদের স্তরের প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ করে দেওয়া।
বিভাজনের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা
তবে এই প্রস্তাবের বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কঠোর স্তরভেদ চালু করলে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশে ভাটা পড়ার ঝুঁকি থাকে। টেস্ট খেলুড়ে শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ে না নামলে ছোট দলগুলোর খেলার মানে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটানো কঠিন হতে পারে।
সূত্রprothomalo.com
সাধারণ প্রশ্ন
সুনীল গাভাস্কার ক্রিকেটে ডিভিশন চালুর প্রস্তাব কোথায় দিয়েছেন?
ভারতের সংবাদমাধ্যম 'মিড-ডে'-তে লেখা একটি কলামে সুনীল গাভাস্কার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফুটবলের মতো স্তর বা ডিভিশন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটি কোন দলের?
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় রানের রেকর্ডটি আইভরিকোস্টের দখলে; নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে তারা মাত্র ৭ রানে অলআউট হয়েছিল।
গাভাস্কারের মতে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রধান যুক্তি কী?
সহযোগী দেশগুলোর অসম শক্তির লড়াইয়ে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস্য রেকর্ডগুলো পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পরিসংখ্যানের সঙ্গে এক করে দেখা অযৌক্তিক, তাই রেকর্ডের মানদণ্ড নির্ধারণ করতেই এই প্রস্তাব।
সর্বশেষ নিবন্ধ
এখনই চেষ্টা করুন
এখনই ভিজিট করুন